সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশঅপকর্মের পরও বহাল তবিয়তে: কালুখালীর ইউপি সচিবকে রক্ষা করছে কে?

অপকর্মের পরও বহাল তবিয়তে: কালুখালীর ইউপি সচিবকে রক্ষা করছে কে?

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
একের পর এক নানা অপকর্ম করেও শাস্তি হয় না রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ইউপি সচিব রবিউল ইসলামের। তার এই অদৃশ্য শক্তির উৎস কি এ নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
ইউপি সচিব রবিউল ইসলাম বর্তমানে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি এক শিশুর বাবার নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইউপি সচিব রবিউল ইসলাম।
৮ বছর আগে গোয়ালন্দের মোছাঃ হাসি খাতুনকে প্রেমের সুত্রধরে বিয়ে করেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিনবাড়ীয়া গ্রামের কোরবান ব্যাপারী। এসময় হাসি খাতুনের কাছে পূর্ব স্বামী জমির উদ্দীনের ঔরশজাত সন্তান আশিক ব্যাপারী চলে আসে। সন্তানটি স্কুলে ভর্তির জন্য রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে যায় হাসি।সে পূর্ব স্বামীর নাম আড়াল করে কোরবান ব্যাপারীকে স্বামী দেখিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করে।কিন্তু তথ্য সেবা কেন্দ্রের চৌকস উদ্যোক্তারা বিষয়টি ধরে ফেলেন। তারা আসল পিতা তথ্য গোপন করায় ওই মহিলাকে তাড়িয়ে দেন। যাবার সময় হাসি খাতুনের সাথে দেখা হয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলামের।তিনি বিষয়টি জানার পর ফেক পিতার নামে নিবন্ধন করতে রাজী হন।এরপর শুরু হয় দরকষাকষি। মাত্র ২ হাজার টাকায় সব মিটমাট হয়। রবিউলের কথামত এক গোপন কম্পিউটারের দোকানে ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করেন হাসি খাতুন। এবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান/ মেম্বরের যাচাই পর্ব।এ পর্ব সম্পন্ন করার পর সচিব রবিউল ইসলামের নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করার কথা। যেহেতু বাণিজ্যিক কোঠার কাজ।তাই চেয়ারম্যান /মেম্বরদের বোকা বানিয়ে ফেক পিতায় আশিক ব্যাপারীর নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করেন সচিব রবিউল ইসলাম। রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আশিকের নিবন্ধন নং ২০১৮৮২৩৪৭৮৫১৩২০৯৮। তবে এপর্যন্তই শেষ নয়।
গত ১৭ মার্চ ২০২৬। কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরন চলছিলো।বিতরন কাজে অনিয়মের অভিযোগে উঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন ঘটনাস্থল ঘুরে শতাধিক কার্ড ও ৫শ ৬০ কেজি চাল উদ্ধার করেন। এসময় তিনি ২ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেল ও জরিমানা করেন। ঘটনার মুল নায়ক রতনদিয়া ইউনিয়নের সচিব রবিউল ইসলাম হলেও তিনি অদ্যবধি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি।
ঘটনাস্থলে চাউল ব্যবসায়ীরা জানায়,তারা সচিব রবিউল ইসলামের নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময় ১শ কার্ড ক্রয় করেছে।
সচিব রবিউল ইসলাম ২০২৪ সালে কালুখালীর মদাপুর ইউনিয়নে কর্মরত ছিলো। তিনি ওই ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালে পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়ন পরিষদের জাগির মালঞ্চী এলাকার রাইজদ্দিন মল্লিকের পুত্র মোঃ হাবিবুর রহমান এমনের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। তার নিবন্ধন নং ২০০৫৮২১৪৭৬০১০৭৯৫৫। ইস্যু ২৯/২/২৪ ইং। এখানে কোন প্রকার স্থায়ী/ অস্বায়ী ঠিকানা না থাকলেও রবিউল তার নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করেন।
গত ৫ আগষ্ট পালিয়ে যান মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু।সেই পলাতক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনুকে উপস্থিত দেখিয়ে এক জরুরী সভা সম্পন্ন করেন সচিব রবিউল ইসলাম। ওই সভায় তিনি ইউপি চেয়ারম্যান সহ ১২ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন পাশ করেন। যদিও সভাতে কোন সদস্য উপস্থিত ছিলো না। বিষয়টি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পেলেও সচিব রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি কতৃপক্ষ।
এ বিষয়ে রবিউলের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি বরং নিউজটা না করতে অনুরোধ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments