মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশগোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস পালিত

গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস পালিত

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

২১ এপ্রিল গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পাকবাহিনী পদ্মাপারের গোয়ালন্দ ঘাট আক্রমন করে নিরস্ত্র মানুষের উপর ব্যাপক গণহত্যা চালায়। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে শহীদদের পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল কাকডাকা ভোরে আরিচাঘাট থেকে একটি গানবোট ও একটি কে-টাইপ ফেরি করে হানাদার পাকবাহিনী এসে তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমার উজানচর ইউনিয়নের কামারডাঙ্গি এলাকায় নামে । সেখানে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইপিআর, আনছার ও মুক্তিবাহিনীর একটি দল হালকা অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। কিন্তু পাকবাহিনীর ভারি অস্ত্রের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে।
এসময় শত্রুবাহিনীর বুলেটে শহীদ হন আনছার কমান্ডার মহিউদ্দিন ফকির। এরপর পাকবাহিনী পাশ্ববর্তী বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ব্যাপক গণহত্যাযজ্ঞ চালায়। নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেখানে হানাদারের বুলেটে শহীদ হন বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের স্বাধীনতাকামী জিন্দার আলী মৃধা, নায়েব আলী বেপারি, মতিয়ার বেগম, জয়নদ্দিন ফকির, কদর আলী মোল্লা, হামেদ আলী শেখ, কানাই শেখ, ফুলবুরু বেগম, মোলায়েম সরদার, বুরুজান বিবি, কবি তোফাজ্জল হোসেন, আমজাদ হোসেন, মাধব বৈরাগী, আহাম্মদ আলী মন্ডল, খোদেজা বেগম, করিম মোল্লা, আমোদ আলী শেখ, কুরান শেখ, মোকসেদ আলী শেখ, নিশিকান্ত রায়, মাছেম শেখ, ধলাবুরু বেগম, আলেয়া খাতুন, বাহেজ পাগলাসহ নাম না জানা আরো অনেকে। সেই থেকে এই দিনটিকে গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস হিসেবে বিবেচনা করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারন মানুষ।
মঙ্গলবার সকালে ৭১ এর স্মৃতি বিজরিত ওই স্থানে স্থানীয় যুবক ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া অংশগ্রহন করেন সরকারী গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মুহিত, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, অবসর প্রাপ্ত পিটিআই ইন্সটেক্টর মফিজুল ইসলাম তানসেন, অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. বাবলু বেপারী, উজানচর ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা সেলিম খান সলিম, ব্যবসায়ী জিয়াউল হক বাবলু, শেখ নাজিমউদ্দিন রাসেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২১ শে এপ্রিল ছিল বুধবার। ভোরে পাকহানাদার বাহিনী গোয়ালন্দ আক্রমন ও নিরস্ত্র মানুষের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছিল তা ভাবলে এখনো গা শিউরে ওঠে। মূলত ওই দিনই এ অঞ্চলের সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments