রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়শত বছরের রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণে আসন্ন গণভোট

শত বছরের রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণে আসন্ন গণভোট

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে মাইলফলক এবং একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে শত বছরের সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা কী ধরনের রাষ্ট্র প্রত্যাশা করি, তা নির্ভর করবে গণভোটের ফলাফলের ওপর। এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে, কয়েক ডজন পুরোনো আইন সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংস্কারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ জারি করা হয়েছে, যা মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে আদেশ আকারে কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এখন নাগরিকদের অনুমোদন নেওয়ার পালা, তাই আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে জনগণ হ্যাঁ বা না ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে মতামত জানাবেন। প্রফেসর ইউনূস জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে এবং এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে এবং নির্বাচন যেন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সর্বোপরি সুষ্ঠু হয়, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব সবার এবং জনগণের মূল্যবান ভোটই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ভোটকে শুধু কাগজে সিল দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে সক্রিয় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। দেশের মালিকানা জনগণের হাতে এবং সেই মালিকানার স্বাক্ষরই হলো ভোট উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও পবিত্রতা রক্ষায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখুন, শত্রু হিসেবে নয় এবং নির্বাচনের মাঠে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করুন। যারা ভোট বাক্স ডাকাতি করবে তারা দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণকারী এবং নাগরিকদের শত্রু বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ভোটের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, তাই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোট রক্ষা করা দেশ রক্ষা করার সমান দায়িত্ব এবং ভোট হলো দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গাড়ির চাকা, যা কাউকে চুরি করতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও নির্বাচনী পরিবেশের উপযোগী করতে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে, যা কোনো অনুরাগ বা বিরাগ থেকে নয়, বরং দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য একটাই—দেশের প্রতিটি ভোটার যেন নিরাপদ পরিবেশে, ভয়মুক্ত মনে এবং সর্বোচ্চ স্বাধীনতায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে আরও যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments