শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়বদলি আদেশ প্রত্যাহারের চেষ্টায় আন্দোলনকারী প্রাথমিকের শিক্ষকেরা

বদলি আদেশ প্রত্যাহারের চেষ্টায় আন্দোলনকারী প্রাথমিকের শিক্ষকেরা

বদলি আদেশ প্রত্যাহারের চেষ্টায় আন্দোলনকারী প্রাথমিকের শিক্ষকেরা নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সোমবার রাতে এক শিক্ষক নেতা ই নিউজকে বলেন, রোববার রাতে আন্দোলনকারী সহকারী শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরারের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত প্রকাশ করে মানবিক দিক বিবেচনায় শিক্ষকদের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টা তাদের বদলি আদেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তাদের আন্দোলনের দাবি দাওয়া নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেন। এছাড়া বদলিস্থলে যোগদান করে শিক্ষকদেরকে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। এর আগে রোববার বিকালে আন্দোলনকারী সহকারী শিক্ষকদের ৫০ জনের একটি প্রতিনিধি দল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে দেখা করে একই ধরনের দাবি জানান তারা। মহাপরিচালকও শিক্ষকদেরকে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪২ সহকারী শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক মাহফুজা খাতুনের সই করা অফিস আদেশে এই বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই বদলির তালিকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতারাও রয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদকে নোয়াখালী থেকে লক্ষ্মীপুরে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে আরো কয়েকজন নেতাকে ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়। এছাড়াও সারাদেশে ৫০০ থেকে ৫৫০ জন শিক্ষককে অপেক্ষামান বদলি তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাধারণত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজ জেলায় পদায়ন পেয়ে থাকেন এবং এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলি করার রেওয়াজ নেই। তবে শাস্তিমূলক বদলির ক্ষেত্রে অনেক সময় ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয় এবং সে ক্ষেত্রে অফিস আদেশে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়ে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালক মাহফুজা খাতুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রশাসনিক কারণে এই বদলি করা হয়েছে। এ আদেশ জারির পর গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর দুটি মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ও ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর নেতারা যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সন্তানতুল্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে রোববার থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন বা তালাবদ্ধ কর্মসূচী স্থগিত করা হলো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments