কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই এলাকায় চাঁদা আদায়ে বাধ্য করা ও না দেওয়ায় দুজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি শিদলাই আমির হোসেন জোবেদা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী রংমিস্ত্রি কামরুল হাসান এবং রুবেল পৃথকভাবে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিদলাই বাজারে হাঁস কেনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। বাজার থেকে ৭০০ টাকায় একটি হাঁস কেনার পর রুবেলের কাছে ৩০০ টাকা খাজনার নামে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাব্বির ও তার সহযোগীরা রুবেলকে প্রকাশ্যে মারধর করে। রুবেলকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রংমিস্ত্রি কামরুলকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় কামরুলের সঙ্গে থাকা ৬০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কামরুল বলেন, “আমি রংয়ের কাজ করে সংসার চালাই। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে খাজনার নামে চাঁদা আদায় করছে সাব্বির ও তার লোকেরা। সেদিন অন্য একজনকে মারতে দেখে এগিয়ে যাই। তখন তারা আমাকেও প্রচণ্ড মারধর করে এবং টাকাপয়সা ও পাসপোর্ট নিয়ে যায়। তাই থানায় অভিযোগ করেছি।”
হাঁস ক্রেতা মোহাম্মদ রুবেল অভিযোগ করে বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করেছে সাব্বির। আমাকে বাঁচাতে আসা কামরুলকেও তারা ছাড়া দেয়নি।”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাব্বির ও তার অনুসারীরা নিয়মিত বাজারে চাঁদা তোলে এবং এলাকায় দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। একজন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সপ্তাহে দুই দিন চাঁদা ওঠানো হয়। অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাব্বির হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় এসে খোঁজ নিলে সত্য বেরিয়ে আসবে। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই দলের কয়েকজন ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “এই ঘটনার দুটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আগামীকাল যাব। তদন্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



