জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চাননি, তারা রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিক বা রাষ্ট্র পরিচালনায় আসুক—এটা আপনারা চান না। অথচ নারীদের দিয়েই আপনারা ভোট চাওয়ান। এখানেই আপনাদের গলদ। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন, এ দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা। তিনি জানান, সারা দেশে বিরোধী মতের নারীদের টার্গেট করে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে নারীদের অশ্লীল গালিগালাজ করা হচ্ছে। সমাজকে ভয়ংকর অধঃপতনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, এটি জঙ্গি বা দস্যুদের কৌশলের মতো। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম। তিনি বলেন, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, তবে হুমকি দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। তারা নারীবিরোধী নয়, তারা সেই নারীদের বিরোধী যারা ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। তারা নারীকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার জন্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দি থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি অন্য একটি দলের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা, যোগ্য ও চরিত্রসম্পন্ন। ভিন্ন মতাদর্শী নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন, অযোগ্য ও ইসলামবিরোধী। তাদের একটি বট বাহিনী আছে যারা অনলাইনে বিরোধী নারীদের টার্গেট করে হুমকি দেয়, সাইবার বুলিং করে, যাতে নারীরা ভয় পায় ও ঘরে বসে পড়ে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জেল খেটেছি, আর এখন তার ফল হিসেবে পাচ্ছি সাইবার বুলিং—যা ইচ্ছা তাই।



