শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়কেরানীগঞ্জে ১০ তলা ভবনে ভয়াবহ আগুন, জুট কারখানা থেকে সূত্রপাত: ৪২ জনকে...

কেরানীগঞ্জে ১০ তলা ভবনে ভয়াবহ আগুন, জুট কারখানা থেকে সূত্রপাত: ৪২ জনকে উদ্ধার

ঢাকার কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায় দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু সংলগ্ন জাবালে নূর টাওয়ার নামের একটি ১০ তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে ভবনের নিচতলায় থাকা একটি জুট কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন ভবনের বাসিন্দারা।

ঘটনার পরপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের নিচতলা ও দোতলায় থাকা একাধিক জুট ও গার্মেন্টস কারখানায়। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকার সদরঘাট ও ফুলবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটসহ মোট ১৪টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। তবে ভোর পাঁচটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুনের মধ্যে ভবনে আটকে পড়া অন্তত ৪২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাবালে নূর টাওয়ারের আন্ডারগ্রাউন্ড, নিচতলা ও দোতলায় ৪০ থেকে ৫০টির মতো জুট ব্যবসায়ী ও গার্মেন্টস কারখানার দোকান রয়েছে। তিন তলা থেকে দশ তলা পর্যন্ত অংশ আবাসিক হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে আনুমানিক পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভবনের তিনতলার বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, ভোর পাঁচটার দিকে আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় তাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিচে নামেন। নিচতলায় গিয়ে দেখতে পান জুটের বস্তা দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে ভবন ছেড়ে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচে ও সেতুর ওপর আশ্রয় নেন। বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক নারী ও গৃহিণী ছিলেন, যাদের উদ্ধার করতে স্থানীয়রাও সহায়তা করেন।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। সকাল ছয়টার দিকে ঢাকার সদরঘাট ও ফুলবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট যোগ দেয়। আগুন নেভানোর সময় সাড়ে ছয়টার দিকে পানির সংকট দেখা দিলে ফায়ার সার্ভিসের পাইপ বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ করে পানি সংগ্রহ করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, নদী থেকে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হলেও ভবনটির চারপাশে গিঞ্জি পরিবেশ, সংকীর্ণ রাস্তা এবং পাশাপাশি একাধিক ভবন থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments