শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ । একই সঙ্গে হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে ৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা । শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন । সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার অংশগ্রহণে জমায়েতটি বড় আকার ধারণ করে । অবরোধের ফলে শাহবাগের একপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়, তবে আশপাশের সংযোগ সড়ক দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক ছিল । নেতাকর্মীরা ‘তুমি কে, আমি কে, হাদি-হাদি’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘বইলা গেছে হাদি ভাই, আমার খুনের বিচার চাই’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’, ‘শাহবাগ না ইনসাফ, ইনসাফ ইনসাফ’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন । ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আমরা বিশ্বাস করি না । হাদিকে হত্যা করা হয়েছে কারণ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন । তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার ২১ দিন পার হলেও সরকার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে যা সরকারের সদিচ্ছার অভাবের প্রমাণ । ৭ জানুয়ারির মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও কেবল একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না । সব জড়িতকে আইনের আওতায় এনে অভিযোগপত্র দিতে হবে, অন্যথায় ৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে । নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথে থেকেই রাষ্ট্র পাহারা দেবে ইনকিলাব মঞ্চ এবং হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে । রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান, কেউ বৈঠক করতে এলে তা ওপেন হবে, কোনো গোপন বৈঠক নয় এবং দিল্লির সঙ্গে কোনো সিক্রেট বৈঠক হতে দেওয়া হবে না । শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয় । শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন । গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু সময় পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালায় । মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকায় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান ।



