খুলনার দাকোপ উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) সাবেক এক নেতার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দল ত্যাগ করায় ওই নেতার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ‘নারী নির্যাতনের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে চরমোনাইয়ের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিতে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর ওপর দায় চাপিয়ে অনলাইনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দাকোপ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি দলটির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন। তার এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ও রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে একদল নারী দিয়ে তার ওপর হামলার একটি মিথ্যা নাটক সাজানো হয়। ভুক্তভোগী নেতা দাবি করেছেন, পদত্যাগের পরপরই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং তার কাছে থাকা ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণে স্পষ্ট যে, এই কথিত হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে চরমোনাইপন্থী কিছু অনলাইন এক্টিভিস্ট ঘটনাটিকে ‘জামায়াতের হামলা’ হিসেবে প্রচার করছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি চরমোনাইয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদত্যাগের প্রতিশোধ নেওয়ার অপকৌশল মাত্র। স্থানীয়দের মতে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই একটি ব্যক্তিগত ও দলীয় বিরোধকে জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই পরিচয়। দলত্যাগী নেতার হাতে থাকা ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চরমোনাইয়ের এই কথিত ‘ষড়যন্ত্র’ ফাঁস হতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলেন, অন্য দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে জামায়াতকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো সস্তা রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষ এখন সত্য-মিথ্যা বুঝতে সক্ষম।



