মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
প্রবাসী বাবার সাথে প্রথম দেখা ১১ মাস বয়সী শিশু রেজোয়ান ইসলাম রাফির। অথচ প্রথম দেখাতেই শেষ বিদায়। কারণ প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরেছে বাবার নিথর দেহ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপেরডাঙ্গী গ্রামে।
রাফির বাবার নাম মুরাদ শেখ (৩৬)। তিনি দরাপেরডাঙ্গী গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।
জানা গেছে, অনাগত সন্তান রাফিকে ছয় মাসের গর্ভে রেখে জীবিকার তাগিদে ২০২৫ সালের মার্চ ৬ মার্চ সৌদি আরবে পাড়ি জমান মুরাদ শেখ। সেখানে দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সময় বিকেল ৩ টার দিকে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মুরাদ। হঠাৎই দ্রুতগতির বেপরোয়া একটি বাস চাপা দেয় তাকে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মুরাদ।
শনিবার (৯ মে) তার মরদেহ নিজ বাড়িতে এলে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। মুরাদের সেই অনাগত সন্তান রাফির বয়স এখন ১১ মাস।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৯ মে সকালে প্রথমবারের মতো দেখা হলো বাবা-ছেলের। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; দু’জনের কেউ কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারেনি, পারেনি আদরের ছোঁয়া দিতে।
পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কান্না আর আহাজারিতে রাফিও শেষ বিদায় দিয়েছে বাবাকে। কে জানে, বাবাকে বলার জন্য কতশত কথা জমে আছে ছোট্ট রাফির মনে? কিন্তু সেই কথাগুলো আর কোনদিনও বলা হবে না তার। বাবা ডাকার আক্ষেপটাও থেকে যাবে তার সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে।
অন্যদিকে, বাবাকে হারিয়ে কান্না আর আহাজারি থামছেইনা মুরাদের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মাইশা আর ৭ বছরের মেহেরিমার। আদরের নারী ছেড়া ধনকে পরম মমতায় শেষবিদায় দিচ্ছেন মা মাজেদা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় স্ত্রী আঞ্জুযারা বেগম, বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
আদরের ভাইকে হারিয়ে বোনদের আহাজারি কাঁদিয়েছে উপস্থিত সকলকেই। মুরাদকে শেষ বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১১ টায় নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় মুরাদকে। শেষ হয় এক রেমিট্যান্স যোদ্ধার সংগ্রামী জীবনের অধ্যায়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, মুরাদ খুব ভালো ছেলে ছিল। তিনটি শিশু বাচ্চা রেখে প্রবাসের মাটিতে তিনি মারা গেলেন। এতে পরিবারটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



