শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশচার বছর প্রেমিকের পড়াশোনার খরচ, বিয়ের তিন মাসেই তালাক; বিচার চেয়ে অনশনে...

চার বছর প্রেমিকের পড়াশোনার খরচ, বিয়ের তিন মাসেই তালাক; বিচার চেয়ে অনশনে তরুণী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

গার্মেন্টসে রাত-দিন পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থে চার বছর ধরে প্রেমিকের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত খরচ বহনের দাবি এক তরুণীর। দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর গোপনে বিয়ে করলেও সেই সংসার টিকে মাত্র তিন মাস। বিচ্ছেদের পর নিজের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রাক্তন স্বামীর বাড়ির সামনে অনশন শুরু করেছেন তিনি।

ঘটনাটি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ডাওয়াইটারী নয়াগ্রাম এলাকায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম শফিউল ইসলাম শাহিন।

সরেজমিনে
গত (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্তের বাড়ির মূল ফটকের সামনে বোরকা পরিহিত ওই তরুণী অবস্থান করছেন। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেন বলে অভিযোগ। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমতে দেখা যায়।

অনশনরত তরুণীর দাবি, ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করে তিনি চার বছর ধরে শাহিনের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। পারিবারিকভাবে সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা গোপনে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ডাকযোগে তালাকনামা পান তিনি।

তার অভিযোগ, তালাকনামা পাওয়ার পরও কিছুদিন তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক চলছিল। ওই সময় তাকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তালাকের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিন আত্মগোপন করেন। এরপর স্বামীর খোঁজে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বের করে দেন এবং বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

অনশনরত তরুণী বলেন, “আমি গার্মেন্টসে রাত-দিন পরিশ্রম করে চার বছর ওর পড়াশোনা ও সব খরচ চালিয়েছি। বিশ্বাস ছিল আমাদের সুন্দর একটি সংসার হবে। কিন্তু বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার ও আমার প্রাপ্য মর্যাদা চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠব না।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তরুণীর বাবা-মাও। তারাও মেয়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জু মিয়া বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, এর আগেও ওই তরুণীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শফিউল ইসলাম শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চিলমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবুজ মিয়া বলেন, “এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তরুণীর আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments