রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশঅর্থকষ্টে বিক্রি করা ছেলের সাইকেল ফিরিয়ে দিলেন ছাত্রদল নেতা

অর্থকষ্টে বিক্রি করা ছেলের সাইকেল ফিরিয়ে দিলেন ছাত্রদল নেতা

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ। দিনমজুর বাবার হাতে নেই কোনো রোজগার। ঘরে খাবার জোগাড় করাই যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সন্তানের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটিও হয়ে ওঠে সংসার বাঁচানোর শেষ সম্বল। এমনই এক অসহায় মুহূর্তে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসানের বহু শখের সাইকেলটি মাত্র চার হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তার বাবা মো. রিপন শেখ।

রোববার (০২ আগস্ট) রাজবাড়ী পৌর শহরের পুরাতন বাইসাইকেলের হাটে সাইকেলটি বিক্রি করে ফেরার সময় বাবা-ছেলের চোখের পানি যেন পথচারীদেরও থমকে দেয়। সন্তানের মুখের কান্না আর বাবার অসহায়ত্ব দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে এগিয়ে আসেন রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও আসন্ন পৌর নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম রোমান। তিনি বিক্রি হওয়া সাইকেলের মূল্য পরিশোধ করে সেটি আবার বাবা-ছেলের হাতে ফিরিয়ে দেন।

জানা যায়, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিপন শেখ বর্তমানে রাজবাড়ী পৌর শহরের ফুলতলা এলাকায় বসবাস করেন। দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান তিনি। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। বাধ্য হয়েই ছেলে জিসানের প্রিয় সাইকেলটি বিক্রি করেন।

সাইকেল ফিরে পেয়ে আনন্দ আর আবেগে কেঁদে ফেলে জিসান। শিশুটির চোখের জল এবার আর কষ্টের ছিল না, ছিল ফিরে পাওয়া আনন্দের। জিসান বলে, “সাইকেলটা আমার খুব প্রিয় ছিল। এটা বিক্রি হয়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আবার ফিরে পেয়েছি, আমি খুব খুশি। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চাই।”

জিসানের বাবা রিপন শেখ বলেন, “অভাবের কারণে ছেলের শখের সাইকেল বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। সাইকেল বিক্রি করে ফেরার সময় ছেলে আর আমি দুজনেই কান্না করছিলাম। তখন রোমান ভাই আমাদের ডেকে সব কথা শুনে সাইকেলটি ফিরিয়ে দেন। এই উপকার কোনোদিন ভুলব না।”

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও আসন্ন পৌর নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, “একজন বাবার অসহায়ত্ব আর একটি শিশুর কান্না আমাকে নাড়া দিয়েছে। সামান্য একটি উদ্যোগে যদি একটি শিশুর হাসি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবারের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।”

ঘটনাটি মুহূর্তেই উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে। অনেকেই বলেন, অর্থের মূল্য যেমন আছে, তেমনি সময়মতো একটি মানবিক হাতও কখনো কখনো একটি পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে ওঠে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments