গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার গাবতলীতে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের তেরপাখী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. লীমা বেগম (৩৫) গত ১ আগস্ট গাবতলী মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন— মোছা. জরিনা বেগম (৩০), স্বামী: মো. বিপুল প্রামানিক; মো. আরিফুর রহমান আরিফ (৪০), পিতা: মো. ফরজউল্লাল্লাহ ওরফে টুকু; এবং মো. মেহেদী হাসান (৩২), পিতা: মো. ভেলু প্রামানিক। সকলের বাড়ি তেরপাখী গ্রাম, নেপালতলী ইউনিয়ন, গাবতলী, বগুড়া।
অভিযোগে বলা হয়েছে, লীমা বেগমের স্বামীর সঙ্গে একই এলাকার এক নারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত ৯ মে ২০২৬ তারিখে ওই নারীকে আর ফোন না করার অনুরোধ জানান লীমা বেগম। এর জেরে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর, চুল ধরে টানাহেঁচড়া ও শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে স্বর্ণের চেইন ফেরত দেওয়ার শর্তে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট মামলার ১ নম্বর আসামি মোছা. জরিনা বেগম এবং ২ নম্বর আসামি মো. আরিফুর রহমান আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মামলার দুই আসামি জরিনা বেগম ও আরিফুর রহমান আরিফকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”



