শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬
spot_img
Homeরাজনীতিজামায়াতজামায়াতে বিদেশিদের বাড়ছে আগ্রহ: দুই মাসে ৩০ মিশনের সঙ্গে বৈঠক

জামায়াতে বিদেশিদের বাড়ছে আগ্রহ: দুই মাসে ৩০ মিশনের সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। গত দুই মাসে অন্তত ৩০টি বৈঠক হয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। এসব আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন সংসদ নির্বাচন, মানবাধিকার ইস্যু এবং নির্বাচনের পর জামায়াতের ভূমিকা কী হতে পারে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জামায়াতের নেতারা দাবি করছেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে বিদেশিদের মধ্যে দলের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিদেশিরা মূলত বুঝতে চাইছেন—নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান কী হবে এবং দলটি ভবিষ্যতে কী ভূমিকা নিতে পারে।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “বিদেশি কূটনীতিকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জামায়াতকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে জনগণ। তাই তারা জানতে চান, জামায়াত কী চায় এবং কীভাবে কাজ করবে।”

সর্বশেষ গতকাল বুধবার জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বসুন্ধরার কার্যালয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। একই দিন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেল ওহাব সাইদানিও তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত জানায়, এসব বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে।

দলটির সূত্র অনুযায়ী, গত দুই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরাও সাক্ষাৎ করেছেন তাঁদের সঙ্গে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিদেশিরা আগ্রহী কারণ জনগণের আগ্রহও আমাদের প্রতি বাড়ছে। তাঁরা দেখছেন, জামায়াতের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই তারাও সম্পর্ক রাখতে চান।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশিরা বোঝার চেষ্টা করছেন—বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা কোন দিকে যাচ্ছে এবং ইসলামপন্থী রাজনীতি ভবিষ্যতে কী ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “জামায়াত যেহেতু একটি ইসলামি দল, তাই বিদেশিরা জানতে চাইছে, তারা ক্ষমতায় এলে কী করবে এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে।”

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল আলীম বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর জামায়াতকে বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক মহল বুঝতে চাইছে, নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান কী হতে পারে।”

এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক স্বাভাবিক বিষয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “যখন নির্বাচন হবে, তখনই বোঝা যাবে আগ্রহের জায়গাটা কতটা পরিবর্তন হয়েছে।”

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে—দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে, আর কূটনৈতিক মহল ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments