নতুন বছরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চললেও স্থানীয়দের লক্ষ্য করে হামলা থামেনি ইসরাইলি সেনাদের। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গাজাবাসী। অপরদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা যৌথভাবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি তাদের সম্পদ বিনষ্ট করছে। শুক্রবার গাজায় যুদ্ধবিরতির ৮৪তম দিন পার হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যেও উপত্যকায় হামলা বন্ধ হয়নি। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গাজায় নতুন করে হামলা জোরদারের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই খবরে জানানো হয়, গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্তপথ রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়ে সামরিক বাহিনী কোনো নির্দেশনা পায়নি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতির মধ্যে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৬ জনে, আহত হয়েছেন এক হাজার ১৫৩ জন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৬৮৩টি লাশ। সব মিলিয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে গাজায় নিহত হয়েছেন ৭১ হাজার ২৭১ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৭১ হাজার ২৩৩ জন। ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করছেন গাজার বাসিন্দারা। ফিলিস্তিনি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলে শীতল ও অস্থিতিশীল আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিভিন্ন এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার তীব্র শীতের কারণে মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তীব্র ঠাণ্ডায় চার শিশুসহ মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে গাজার একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে তিনজন নিহত হয়েছেন। গাজা শহরের ইয়ারমুক স্টেডিয়ামে স্থাপিত শরণার্থী শিবিরে আগুনে এক শিশু ও এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও পাঁচজন আহত হন। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, জেরিকোতে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সালঠিতের কাছে দাইর বাললুত গ্রামের একটি মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং রামাল্লার কাছে তুরমুস আইয়া গ্রামে ফিলিস্তিনি কৃষিজমি দখল করে কয়েকশ জলপাই গাছ উৎপাটন করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে পশ্চিম তীর থেকে একশর বেশি ‘পলাতক’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ভোগে গাজাবাসী
RELATED ARTICLES



