আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
ওয়াশিংটন/তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইরানের দিকে দ্বিতীয় একটি নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর ঠিক এক দিন আগেই গত মঙ্গলবার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান নেয়।
আইওয়ায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “এ মুহূর্তে আরেকটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে ভেসে যাচ্ছে। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে আমি আশা করি তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসবে।” তবে দ্বিতীয় কোন নৌবহরটি ইরানের দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এর আগে এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের কাছে এখন ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আলোচনা করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্টতা। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর সেই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলোকে সরাসরি ইরানের জলসীমার দিকে সরিয়ে আনা হয়। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযানের পর এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে চাপে ফেলতেই এই বিশাল ‘আর্মাডা’ মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক শক্তির প্রদর্শনীকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। ইতিমধ্যে তেহরানের রাজপথে মার্কিন রণতরি ধ্বংসের প্রতিকৃতি সম্বলিত বিলবোর্ডও লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে বিশাল নৌবাহিনী পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা এবং অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান জানানো—এটি ট্রাম্পের সেই পরিচিত ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপের কৌশলেরই অংশ।



