কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এখন চলছে ভোট গণনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের নেতৃত্ব নির্ধারণে অংশ নিয়েছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নেয় এবং বিএনপি ও জামায়াত প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়; ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়, ফলে রাজধানীর বাসটার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। প্রায় ১৫ বছর পর অনেক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশন প্রচারে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে এক লাখ সেনাসদস্যসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। কেন্দ্রে সিসিটিভি, ২৫ হাজার ৭শ বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং প্রায় এক হাজার ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ১ হাজার ১২০ জন।



