বুধবার, মে ১৩, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশশিক্ষকের বেত্রাঘাতে হাসপাতালে ছাত্র, অবরুদ্ধ শিক্ষক

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হাসপাতালে ছাত্র, অবরুদ্ধ শিক্ষক

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর পাংশায় পড়া না পারার অপরাধে এক ছাত্রকে বেধড়ক বেত্রাঘাত ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. তাছিন মুন্সী (১৩)। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেনকে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত তাছিন মুন্সী পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে। সে বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্লাস চলাকালে পড়া না পারার কারণে অভিযুক্ত শিক্ষক তাছিনকে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাছিন কেন অন্যদের চেয়ে বেশি মার খাচ্ছে জানতে চাইলে শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেঞ্চের উপর তুলে মারতে থাকেন। পরে তাকে ক্লাসরুমের মেঝেতে ফেলে অমানবিকভাবে লাথি মারেন। সহপাঠীরা ঠেকাতে গেলে তাদেরও মারা হয়। পরে সহপাঠীরা মিলে তাছিনকে উদ্ধার করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান শিক্ষক শিক্ষককে লাইব্রেরিতে আটকে রাখেন।
আহত ছাত্রের সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া বলেন, “স্যার পড়া না পারার জন্য সবাইকে দুটো করে বেত মারেন। কিন্তু তাছিনকে বেশি মারছিলেন। তাছিন জিজ্ঞেস করে কেন তাকে বেশি মারা হচ্ছে। এরপরই স্যার তাছিনকে বেঞ্চের উপর উঠিয়ে মারতে থাকেন। পরে মেঝেতে ফেলে লাথি মারেন। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদেরও মারেন।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন বলেন, “পড়া না পারার কারণে প্রথমে তাছিনকে মেরেছি। পরে সে আমার মা তুলে গালি দিলে মেজাজ হারিয়ে মেরেছিলাম। বুঝতে পারিনি এমন হবে। আমি অনুতপ্ত। আমার ভুল হয়ে গেছে।”
আহত ছাত্রের বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, “খবর পেয়ে এসে দেখি ছেলের পিঠে একাধিক বেত্রাঘাতের দাগ, প্রতিটি আঘাতের স্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। আমার ছেলে অপরাধ করলে শাসন করার অধিকার অবশ্যই শিক্ষকের রয়েছে। কিন্তু শাসনের নামে যা হয়েছে তা কোনো বাবা মেনে নিতে পারবেন না। আমি সামাজিকভাবে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মৌরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. শাজাহান মন্ডল বলেন, “খবর পেয়েই বিদ্যালয়ে যাই। প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করেছেন। সবাইকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছি।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, “যে কারণেই হোক, এভাবে মারা ঠিক হয়নি। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষককে শোকজ করেছি। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এই সময়ে তিনি বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments