মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশকংসের ভয়াল রূপে ফুলপুরে আতঙ্ক, কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

কংসের ভয়াল রূপে ফুলপুরে আতঙ্ক, কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

দিল মোহাম্মদ চঞ্চল, ফুলপুর উপজেলা প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের মহিষাকান্দা গ্রামে কংস নদের তীব্র ভাঙনে শত শত পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত নদীভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক শতাব্দী ধরে মহিষাকান্দা বাজার থেকে শাকুয়াই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কংস নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির চাপে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এতে প্রতিবছর গড়ে ১৫ থেকে ২০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, একসময় যেসব বাড়িঘর নদী থেকে শত শত ফুট দূরে ছিল, ভাঙনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে এখন সেগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় একটি মসজিদকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে ইতোমধ্যে তিনবার স্থানান্তর করতে হয়েছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে, আবার অনেকেই জীবিকার সন্ধানে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গত রবিবার (১৪ জুন) এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পূর্বের নকশা অনুযায়ী কংস নদ খনন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কংস নদের ভাঙন এখন শুধু কয়েকটি পরিবারের সমস্যা নয়; এটি পুরো এলাকার মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। যেহেতু নদীভাঙনের কারণে এক উপজেলার জমি অন্য উপজেলার সীমানায় চলে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাই এ সমস্যার সমাধানে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে ভূমি জরিপ অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় আবেদন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।”
ভুক্তভোগী মানুষের একটাই দাবি—কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করে কংস নদের ভয়াবহ ভাঙন রোধ করে এবং তাদের বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ভিটেমাটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments