শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশকুমিল্লায় ধাওয়া খেয়ে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া ৩৪ লাখ টাকার শাড়ি জব্দ করেছে...

কুমিল্লায় ধাওয়া খেয়ে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া ৩৪ লাখ টাকার শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি

আবদুল্লাহ সামি, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত রুট ব্যবহার করে দেশে আনা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া অবৈধ ভারতীয় শাড়ির একটি বিশাল চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দকৃত এই শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি জোয়ানদের অতর্কিত ধাওয়ার মুখে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে গহীন অন্ধকারে গা-ঢাকা দেওয়ায় এই অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় এই রোমাঞ্চকর অভিযানটি পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, আসন্ন উৎসব ও বাজার ধরার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানি চক্র কুমিল্লার সীমান্ত অঞ্চলগুলোকে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চোরাকারবারিরা সাধারণত রাতের আঁধার ও বৈরী আবহাওয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) অধীনস্থ আমানগন্ডা সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) একটি চৌকস ও বিশেষ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার রাতে কৌশলগত অবস্থান নেয়।

রাত তখন আনুমানিক সোয়া ১১টা। সীমান্ত রেখা থেকে মাত্র ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোনাপুর এলাকার একটি নির্জন মাঠে ওত পেতে ছিলেন বিজিবি সদস্যরা। আচমকা দেখা যায়, ভারত সীমান্ত পেরিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মাথায় ভারী বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে বিজিবির টহল দল চোরাকারবারিদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তীব্র স্বরে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির আকস্মিক উপস্থিতিতে চোরাকারবারিরা হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং নিজেদের রক্ষার্থে মাথার বস্তাগুলো মাঠের মাঝেই ছুড়ে ফেলে দিয়ে পাশের ঘন জঙ্গল ও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ভারতের সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়।

চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা পুরো এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বেশ কয়েকটি বড় বড় কাপড়ের গাঁট (বস্তা) উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আমানগন্ডা ক্যাম্পে এনে বস্তাগুলো খোলা হলে তার ভেতর থেকে জমকালো ও উন্নত মানের বিপুল পরিমাণ চোরাই ভারতীয় শাড়ি বেরিয়ে আসে। বিজিবি হিসাব কষে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালিকাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সীমান্ত এলাকাটি চোরাকারবারিদের কাছে বেশ পছন্দের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির কড়া নজরদারি ও ঝটিকা অভিযানের কারণে চোরাচালান চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। রাতের আঁধারে বিজিবির এই অতন্দ্র প্রহরার কারণে এত বড় একটি চালান ভেস্তে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

১০ বিজিবির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, জব্দকৃত ভারতীয় শাড়িগুলো বর্তমানে বিজিবি হেফাজতে রয়েছে। প্রচলিত সরকারি শুল্ক আইন ও বিধি মোতাবেক উদ্ধারকৃত মালামাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। দেশীয় অর্থনীতিকে রক্ষায় এবং সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের এই ধরনের কঠোর ও আকস্মিক অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে। চোরাকারবারিদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments