আবদুল্লাহ সামি, কুমিল্লা জেলা:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৩ নম্বর ছোটশালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খাবারের লোভ দেখিয়ে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দেবিদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আলম হাজারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান হাজারীর নির্দেশে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাদ্দাম মুন্সী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ান। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনৈতিক ও নিন্দনীয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মিজান খান, দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মো. সালমান, ছাত্রদল নেতা ইফাত খাঁন ও শাহাদাত খান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বুলু মিয়া, মজিবর রহমান খান, তমাল সরকার, রায়হান সরকার, ইদ্রিস সরকার, গাজী মোহন, মো. নাফিস সরকার, হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা শিশুদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এমন কাজ করিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দেবিদ্বারে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।”
ঘটনায় ভুক্তভোগী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফোরকান অভিযোগ করে বলে, “আমাদের সিঙ্গাড়া-সমুচা খাওয়ানোর কথা বলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বলেছিল। আমরা স্লোগান না দিলে মারধরেরও ভয় দেখায়। ভয়ে আমরা সবাই সাদ্দামের কথা মতো ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিই। পরে সে আমাদের সেই স্লোগানের ভিডিও ধারণ করে।”
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাদ্দাম মুন্সীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্য অভিযুক্ত আলম হাজারী মুঠোফোনে বলেন সাদ্দাম এর সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই গত ছয় মাসেও কোন যোগাযোগ হয়নি রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য
আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে এই ঘটনার কিছুই আমি জানিনা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরর সুবাদে এসব জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিদা সুলতানা দেবিদ্বার থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযুক্ত সাদ্দামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”



