শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশকুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে পথযাত্রীরা

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে পথযাত্রীরা

আবদুল্লাহ সামি, কুমিল্লা জেলা:

টানা বৃষ্টিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিম ও অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, গত তিন মাস ধরে ওই অংশে সংস্কারকাজ চললেও টানা বৃষ্টিতে আশপাশের অংশও ভেঙে যাচ্ছে। যানবাহনের চাপ ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গত তিন দিন ধরে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

হাইওয়ে পুলিশ, কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কির্তিমান চাকমা বলেন, বৃষ্টি হলেই আমতলী এলাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মূল সড়ক ও সংস্কারকাজ চলা বিকল্প অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গত দুই দিনে অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে পড়ে, পরে রেকার দিয়ে সরাতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুমিল্লা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

যানজটে আটকে পড়া চালকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে যাত্রীরা জানান, বর্ষা এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগ দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments