ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কবরস্থানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে রাজধানীর হাসপাতাল মর্গগুলোতে বেওয়ারিশ লাশ জমে যাচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, জুরাইন কবরস্থানে মাসে সর্বাধিক এক-তৃতীয়াংশ লাশ দাফন করা সম্ভব। অপরদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের রায়েরবাজার কবরস্থানে শুধুমাত্র উত্তর সিটি করপোরেশনের লাশ দাফন করা হবে; দক্ষিণের কোনো লাশ এখানে নেওয়া যাবে না।
দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ২২টি এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) মর্গে ৬টি লাশ জমে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে আবার দাফন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
বেওয়ারিশ লাশ দাফনের একমাত্র বেসরকারি সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চিঠি-চালাচালি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজছে। আঞ্জুমান জানিয়েছে, জুরাইন কবরস্থানে মাসে ২০–২২টি লাশ দাফন করা সম্ভব। এরপর আর দাফন করা যাবে না।
জুরাইন কবরস্থানের কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আগের ১৮ মাস পরে একই কবর ব্যবহার করে নতুন লাশ দাফন করা সম্ভব। জুলাই ও আগস্ট মাসে যথাক্রমে ১৯ ও ২১টি লাশ দাফন করা হয়েছে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানিয়েছেন, রায়েরবাজার কবরস্থানে শুধুমাত্র উত্তরের লাশ দাফন করা হবে। দক্ষিণ সিটির লাশ এখানে নেওয়া সম্ভব নয়।
দূর্বল অবকাঠামোর কারণে মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গের ফ্রিজ নষ্ট থাকায় লাশগুলো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান কামনা করছেন।
পটভূমি: আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ১৯০৫ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত, ১৯৪৭ সালে ঢাকায় শাখা চালু হয়। ২০১০–২০২৫ পর্যন্ত ঢাকা শহরে প্রায় ১৩ হাজার বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে।



