রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়প্রধান উপদেষ্টা: ‘এবারের নির্বাচন দেশ রক্ষার নির্বাচন’

প্রধান উপদেষ্টা: ‘এবারের নির্বাচন দেশ রক্ষার নির্বাচন’

আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এটি কোনও প্রচলিত নির্বাচন নয়—এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। দায়িত্ব পালনে শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সদ্য পদায়নকৃত ৫০ জেলা প্রশাসকসহ দেশের মোট ৬৪ জেলার প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচন পাঁচ বছরের সরকার নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; গণভোট যুক্ত হওয়ায় এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, “জাতি বহু অবৈধ ও প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। এবার আমাদের সেই অতীতকে ছাপিয়ে জাতিকে নতুন অধ্যায় উপহার দিতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচন জাতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। “এটি শুধু নির্বাচন নয়—এটি গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণতা দেওয়ার নির্বাচন। এই ভোটের ফলেই নির্ধারিত হবে দেশের আগামী শতাব্দীর পথচিত্র,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সামনে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে ব্যর্থতার সুযোগ নেই। জেলার প্রশাসকরা ধাত্রীর ভূমিকা পালন করবেন—এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতির নবজন্ম হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করতে প্রয়োজনীয় সব জ্ঞান ও প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিপুলসংখ্যক তরুণ ও নারী ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী এবং তারা দেখতে চান বাংলাদেশ কেমন নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই নির্বাচনকে সফল করা গণঅভ্যুত্থানের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ। এটি একটি বড় জাতীয় অভিযান; এই অভিযানে আমাদের জিততেই হবে। স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে সফল নির্বাচন জরুরি।”

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশীদের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল।

মাঠ প্রশাসনের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক এবং বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments