শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশনওগাঁ নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

নওগাঁ নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭ জন ও স্বতন্ত্র ৫ জনসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরসহ ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন-এর বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত রক্ষা করতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮ ভোট, জাতীয় পার্টি-র আকবর আলী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম (ঈগল) ২ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন। নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন জামানত রক্ষা করতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (কলস) পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯ ভোট; বিএনএফ, বাসদ, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র আরও কয়েকজন প্রার্থী ৮ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ) ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পান ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত রক্ষা করতে পারেননি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্ধারিত ভোটের নিচে রয়েছেন। এ আসনে বিএনপির ইকরামুল বারি টিপু (ধানের শীষ) ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; জামায়াতের আব্দুর রাকিব (দাঁড়িপাল্লা) পান ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীরা ৮ শতাংশ ভোট পাননি। এ আসনে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু (ধানের শীষ) ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; জামায়াতের আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (দাঁড়িপাল্লা) পান ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও ৮ শতাংশের নিচে রয়েছেন। এ আসনে বিএনপির শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; জামায়াতের খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পান ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব জানান, নিয়ম অনুযায়ী ৮ শতাংশের কম ভোট পাওয়া প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। ৭৮২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোটার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments