ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের গেজেট এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি জোট জয় পেয়েছে ২১২টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে; আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল পরে দেওয়া হবে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।ফলাফল প্রকাশের পর এখন নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণই পরবর্তী ধাপ। সাধারণত গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন। সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথের সুযোগ নেই।সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়ানোর কথা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন; তা সম্ভব না হলে সিইসি শপথ পরিচালনা করবেন।শপথের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। যে দল বা জোট এককভাবে ১৫১ বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাবেন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সেই সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থা অর্জন করেছেন বলে প্রতীয়মান হন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং এর মাধ্যমে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।



