রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলোর অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. নাইম ইসলাম, মো. সাইদুর রহমান, আবুল কাশেম, মো. প্রান্ত সিকদার, মো. রাজু আহম্মেদ, মো. সাগর ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর ও মো. হাসান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক আবদুল হান্নান গত ২৩ ডিসেম্বর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ২৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক ত্রিদীপ বড়ুয়া। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ও বিশ্বস্ত সোর্সদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই আসামিদের একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাজতি আসামি মো. নাইম ইসলামের কাছে থেকে লুণ্ঠিত নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং লুটপাটের অর্থ দিয়ে ক্রয়কৃত একটি ফ্রিজ ও একটি এলইডি টিভি জব্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপরাধের আহ্বান, অনলাইনে নির্দেশনা প্রদান এবং অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রমের তথ্য-উপাত্ত ছড়িয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মামলায় বাদীর ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি রক্ষা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, মদদদাতা চিহ্নিতকরণ এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য আসামিদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ অপরিহার্য। এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন, যা রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার পর আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে মিছিল করে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ বাধা দিলে তারা বেআইনিভাবে সমবেত হয়ে উত্তেজনামূলক স্লোগান দেয়, ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে লোক জড়ো করে। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তারা কার্যালয়ের ফটকের কাচ ও শাটার ভেঙে আসবাব, মালপত্র ও নথিপত্র নিচে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন তলায় রাখা ১৫০টি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও লকারের টাকা, প্রকাশনার বইপত্র লুট করা হয়। তারা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙে এবং ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভাতে বাধা দেয়। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় লুটপাট করা সম্পদের মূল্য দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোট ৩২ কোটি টাকা। মামলায় প্রথম আলোর হেড সিকিউরিটি অফিসার মেজর (অব.) মো. সাজ্জাদুল কবির বাদী হয়েছেন।



