আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, আসামিপক্ষ চাইছে মামলার বিচারকাজ বিলম্ব করতে। ওনারা (জয়-পলকের আইনজীবী) খুব আশায় আছেন, নির্বাচন হয়ে গেলে আর বিচার-টিচার হবে না। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জয় ও পলকের আইনজীবীরা এই মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির শুনানির জন্য নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন জানালে চিফ প্রসিকিউটর এ মন্তব্য করেন। এরপর ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে? তখন তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওনারা কী আলোচনা করছেন, তা আমাদের কানে আসে।’ আজ জুলাই বিপ্লবে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার ঘটনায় পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। এরপর জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানি করেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী গত শুক্রবার তারা কারাগারে আসামির সঙ্গে দেখা করতে যান, কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ ডিভাইস নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেননি। তিনি আরও বলেন, জব্দ তালিকার ১০টি ভিডিও ফুটেজের মধ্যে কয়েকটি ওপেন হয়নি। তখন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাদের কাছে সব ঠিক আছে, হয়তো ডিভাইসের সমস্যা, তাছাড়া মামলার প্রাইমা ফেসির জন্য একটি ভিডিওই যথেষ্ট, অযথা সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান। পরে লিটন আহমেদ বলেন, তারা আগামী শুক্রবার কারাগারে যেতে চান। তখন চেয়ারম্যান বলেন, শুক্রবার কেন, চাইলে আজই দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে এসব কাজ শেষ করতে পারেন। পলকের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ফর্মাল চার্জ অনেক বড়, পুরোটা পড়তে সময় লাগবে। আদালত সবার প্রতি দয়াবান—এমন মন্তব্যের পর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান জানান, তারা আগামী চার দিন সময় পাবেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়েছে।



