পঞ্চগড়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে পঞ্চগড় শহরের শেরে বাংলা পার্ক সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলছিল এবং ঢাকা-তেঁতুলিয়া সড়ক অবরোধ করে তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। যানজট নিরসনের জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ একাধিকবার কর্মসূচি শেষ করার অনুরোধ জানায়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি দ্রুত শেষ করলেও কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে পঞ্চগড় সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। লাঠিচার্জে আহত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ লোকজনও হামলার শিকার হন। আহতরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কর্মসূচি শেষ করার পরও সেনাবাহিনী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজনকে বেধড়ক পিটিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। আন্দোলনের নেতা ফজলে রাব্বী ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পরই সেনা সদস্যরা হামলা চালায়, যা তারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আশা করেন না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ বলেন, হাদি হত্যার বিচার দাবির সঙ্গে সেনাবাহিনীও একমত। তবে আন্দোলনের কারণে যানজট সৃষ্টি হলে সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং যানজট নিরসনের সময় লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, তবে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানান এবং বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



