বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়ভবিষ্যতে যেন আর কখনও এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন না হয়: প্রধান উপদেষ্টা

ভবিষ্যতে যেন আর কখনও এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন না হয়: প্রধান উপদেষ্টা

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি উপদেষ্টাদের নিয়ে গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিনি বলেছেন, এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা চাইনা ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে। প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার বিকেলে জাদুঘরে পৌঁছান এবং জাদুঘরে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রগুলো ঘুরে দেখেন। প্রেস উইং জানায়, পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একদিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে জাতি যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে, সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা বা একদিন কেউ থাকতে চাইলে থাকতে পারবে। তিনি বলেন, আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল। এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে সবাই এক থাকতে পারবে, এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলো আর ফিরে যাবে না। প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নৃশংস একটি কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্র ছিল না, কিছুই ছিল না। সাধারণ মানুষও যে নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে—এটাই আমাদের শিক্ষা। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের কাজে নিয়োজিত সকলকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে, এটা রেকর্ড। এটি সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলেমেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আরো বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকার হয়ে থাকবে। ভবিষ্যত রাজনৈতিক ডিসকোর্স, শিক্ষা-গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চায় জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘরে পরিদর্শনে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং ২৪ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments