বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়নির্বাচনি প্রচারে বিধি-নিষেধ: প্রার্থীদের জন্য কী বৈধ, কী নিষিদ্ধ

নির্বাচনি প্রচারে বিধি-নিষেধ: প্রার্থীদের জন্য কী বৈধ, কী নিষিদ্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি ২০ দিন। বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা। এই প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারণা চালানোর বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে ইসি। নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এবার প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনি জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনে দলগুলোর কোনো বাধা নেই, তবে আয়োজনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার দিন-তারিখ ও সময় লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। সড়ক-মহাসড়ক কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলেও ব্যবস্থা নেবে ইসি। প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হবে না। ব্যানার-লিফলেট-হ্যান্ডবিল-ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল সর্বোচ্চ এ-ফোর সাইজ এবং ফেস্টুন সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি হতে পারবে। ব্যানার বা লিফলেটে নিজের প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে পোর্ট্রেট আকারে এবং সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। নিবন্ধিত দলের প্রার্থীরা শুধু দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো প্রতীকের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা তিন মিটারের বেশি হবে না। প্রার্থী, এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন, তবে আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পেজের নাম, আইডি ও ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ। ঘৃণাত্মক, মিথ্যা, বিকৃত বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি অপব্যবহার নিষিদ্ধ। সব কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে। গুজব ও এআই অপব্যবহার রোধে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা যেকোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে মিছিল, শোডাউন বা মশাল মিছিল নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। প্রচারে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments