নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করার পাশাপাশি চাঁদাবাজদের পুনর্বাসনে কাজ করবে তার দল। শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এস এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চাঁদাবাজদের উদ্দেশে এক ব্যতিক্রমী আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। আমরা তোমার হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেব। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না, কেউ তোমার পরিবারকে হেয় করবে না। আমরা এমন এক সমাজ গড়তে চাই যেখানে সবাই সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মধ্যস্বত্বভোগী এবং ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির কারণেই দেশের কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না, তাই সরকার গঠন করলে এই অপশক্তিকে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদীগুলো বর্তমানে মরুভূমি ও কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। নদীর জীবন ফিরে পাওয়ার ওপরই উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নির্ভরশীল। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পুরো উত্তরবঙ্গকে একটি কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি সব নদী রক্ষায় বিশেষ মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। কৃষির উন্নয়নে গাইবান্ধায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াতে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
পররাষ্ট্র নীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চায় না। বিশ্বের সব সভ্য দেশ ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখলেও কারও কোনো খবরদারি বরদাশত করা হবে না। বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ফ্যাসিবাদের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এর আমূল পরিবর্তনের ডাক দেন। এছাড়া তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে বড়দের পেছন থেকে শক্তি ও সাহস দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে তিনি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি দাবি করেন যে, জামায়াতের আলাদা কোনো কার্ড নেই, সাধারণ ভোটাররাই তাদের মূল শক্তি।



