নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন। ইশতেহারে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ (No Service, No Bill) নীতির প্রস্তাব করেছেন। তাসনিম জারা বলেন, সংসদে তার প্রথম কাজ হবে এমন একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করা, যেখানে গ্যাস বা তিতাস গ্যাস যদি সেবা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে গ্রাহকের মাসিক বিল মওকুফ করতে হবে। তিনি একে এক ধরনের প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিতাস গ্যাস দিতে না পারলে টাকা নিতে পারবে না—এটিই হবে তার প্রথম দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এই নেত্রী তার ইশতেহারে মোট ছয়টি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ঢাকা-৯ আসনের বাসিন্দারা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স ও বিল দিলেও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা সমান ট্যাক্স দেই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির। রাষ্ট্র আমাদের এটিএম মেশিন ভাবে, টাকা নেওয়ার সময় আছে কিন্তু সেবা দেওয়ার সময় নেই।” তিনি নিজেকে পেশাদার রাজনীতিকের চেয়ে এলাকার মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ঢাকা-৯-এর অবহেলার দিন এবার শেষ হবে। এলাকার গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা রাস্তার সমস্যা সমাধানে তিনি সিন্ডিকেট ভাঙার অঙ্গীকার করেন এবং পাইপলাইনে গ্যাস না পাওয়া পর্যন্ত সরকারকে ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে বাধ্য করার কথা জানান।
একজন চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি তার দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিক ‘মিনি হাসপাতালে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী অফিস করবেন যা সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষকে এমপির দেখা পেতে কোনো ‘ভাই’ বা ‘নেতার’ পিছু নিতে না হয়।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ‘ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ তৈরির অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের অভিযোগের বর্তমান অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তাসনিম জারা তার ইশতেহারকে কোনো গতানুগতিক ‘ফাঁকা বুলি’ নয় বরং জনগণের সাথে একটি ‘চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে রাজনীতিতে আসা এই তরুণ নেতা ঢাকা-৯-এর ভাগ্য বদলাতে আগামী নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট চেয়েছেন।



