বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশনা

নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ এবং এই সংবেদনশীল সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার আশাবাদী। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। ড. ইউনূস বলেন, গণভোট ও নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত একটি জাতির আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হবে এই নির্বাচন। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে মানুষ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে মতামত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তরুণদের একটি বড় অংশ এবারই প্রথম ভোট দেবে এবং অনেক নাগরিক দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাই সবার জন্য শঙ্কামুক্ত ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি এবং মাঠপর্যায়ে সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল, যেন সামান্য বিচ্যুতিও জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য যুগোপযোগী করে গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি জানান, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে এবং নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এমন স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান। এসব উদ্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও আভিযানিক দক্ষতা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান অভ্যর্থনা জানান। সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments