ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত ‘সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব’ নামের একটি অনুষ্ঠান ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বছরের ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মুসলিম সম্প্রদায়কে ভারত থেকে বিতাড়িত করা এবং দেশটিকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রকাশ্য ডাক দেওয়া হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম কুইন্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তথ্য অধিকার আইনের (RTI) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই আয়োজনের জন্য ৬৩ লাখ রুপির তহবিল সরবরাহ করেছে। শুধু অর্থায়নই নয়, কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং, প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক, সঞ্জয় শেঠ এবং দিল্লির পর্যটন মন্ত্রী কপিল মিশ্রর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটিতে মুসলিমদের লক্ষ্য করে চরম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। সুদর্শন টিভির প্রধান সুরেশ চাভাঙ্কে দাবি করেন যে, ভারতের ২৫ শতাংশ মুসলিম অনুপ্রবেশকারী এবং এনআরসি প্রয়োগ করে তাদের দেশ থেকে ছুড়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় প্রতিটি হিন্দুকে একজন করে মুসলিমকে ধর্মান্তরিত করার আহ্বান জানান এবং ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেন তাদের কর্মীদের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনতে। রাহুল দেওয়ান নামের আরেক বক্তা হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার জন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বনের কথা বলেন।
একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং গণ-নির্বাসনের দাবি তোলা এমন একটি আয়োজনে সরকারের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও মন্ত্রীদের উপস্থিতি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। করদাতাদের অর্থ কেন এমন বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কাজে ব্যয় করা হলো, তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় বইছে। যদিও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে দিল্লির পর্যটন দপ্তর এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।



