সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বক্তব্য নিয়ে তার মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতে হয়, আর একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। তিনি বলেন, এই অবৈধ লেনদেনের প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর; বাসভাড়া বৃদ্ধি এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে আদায় করা অর্থের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ে যাত্রী ও ভোক্তার ওপর। মন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে”—তাহলে কি এই অর্থ আদায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অংশ? যদি তা না হয়, তবে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে—ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বার্ষিক নিবন্ধন ফি’র মাধ্যমে—আদায় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কোটি কোটি টাকা আদায়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত ও সেই অর্থ কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে তা প্রকাশের দাবি জানান। তার মতে, এই অর্থ চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত নয়; এটি যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যয়। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা হতাশাজনক হবে।



