বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশযশোরে অপহরণের ৯ দিন পর ভেটেনারি ওষুধ ব্যবসায়ী উদ্ধার

যশোরে অপহরণের ৯ দিন পর ভেটেনারি ওষুধ ব্যবসায়ী উদ্ধার

আজিজুর রহমান (যশোর) চৌগাছা উপজেলা প্রতিনিধি: যশোরে অপহরণের শিকার ভেটেনারি ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে নয় দিন পর উদ্ধার করেছে RAB–৬ এর যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা। বুধবার গভীর রাতে যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল খোলসি গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, উদ্ধার করার সময় জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজের মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযানের খবর পেয়ে অপহরণকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন R A B ৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স। তিনি বলেন, গত ২ মার্চ রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনায় যশোরের কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালাতে থাকে।
তিনি আরও জানান, গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে জানা যায় যে, অপহৃত ব্যবসায়ী চৌগাছার পাশাপোল খোলসি গ্রামে অবস্থান করছেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি ছাবড়া ঘরের পাশে তার মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর তাকে র‌্যাব ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।
এর আগে গত ৪ মার্চ সকালে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সদস্যরা Jessore Press Club-এ এক সংবাদ সম্মেলনে অপহরণের অভিযোগ করেন। তারা জানান, শংকরপুর পশু হাসপাতালের সামনে জাহাঙ্গীর আলমের একটি ভেটেনারি ফার্মেসি রয়েছে। ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ নামে দুটি দোকান তিনি পরিচালনা করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো গত ২ মার্চ রাত ৯টার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার বাড়িতে ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। পথে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার মা জাহানারা খাতুন ও স্ত্রীর কাছে ফোন করে। তারা জাহাঙ্গীরকে জীবিত ফেরত দিতে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি স্বজনেরা। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অপহরণের নয় দিন পর অবশেষে র‌্যাবের অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments