রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার ছেলেসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঐ তরুণী।
বুধবার রাজবাড়ীর পাংশা মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার পর পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম রাশেদ। সে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের ধানুরিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে । রাশেদ ২ নং আসামী।
অন্য দুই আসামি হলো পাংশা উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রাজার ছেলে হাসিবুর রহমান অন্তর এবং পারনারায়ণপুর গ্রামের তায়জাল মুন্সীর ছেলে বরকত মুন্সী। নিপীড়নের শিকার তরুণী কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত ৩০ মার্চ বিকেলে ওই তরুণী কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য পাংশা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এসময় অভিযুক্তরা একটি সাদা রংয়ের হাইয়েস মাইক্রোবাস নিয়ে সেখানে এসে জোর করে তরুণীকে তুলে নেয়। পরে তারা তরুণীকে পাংশার বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। রাত সাতটার দিকে তরুণীকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়।
মামলার ১ নং আসামি হাসিবুর রহমান অন্তরের বাবা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রাজার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। গত চারদিন ধরে তিনি অসুস্থ। তার ছেলে সেবাশুশ্রূষায় তাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তিনি সামনে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। কোনোভাবেই তার ছেলে এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তদন্তে যদি তার ছেলে দোষী সাব্যস্ত হয় তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পাংশা শহরের দত্ত মার্কেট এলাকা থেকে মামলার আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিপীড়নের শিকার তরুণীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



