নাজমুল সাদ, হোমনা,কুমিল্লাঃ
দেশ গড়ার কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তাদের হাত ধরেই। অথচ সেই শিক্ষক যখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়ান, তখন তিনি সম্মান নয়—ভোগ করেন অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির এক নির্মম বাস্তবতা।
বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলেই বন্ধ হয়ে যায় তাদের এমপিও সুবিধা। অর্থাৎ, এখানেই থেমে যায় নিয়মিত আয়ের পথ। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—যেখানে আয় বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে কেন পেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয় না?
বাস্তবতা আরও বেদনাদায়ক। পেনশনের জন্য আবেদন করার পর মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর ঘুরতে হয় এক অফিস থেকে আরেক অফিসে। ফাইলের স্তূপ, স্বাক্ষরের জটিলতা আর ধীরগতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হয়ে পড়েন অসহায়। অসুস্থতা, অর্থকষ্ট আর মানসিক চাপ হয়ে ওঠে তাদের নিত্যসঙ্গী।
একজন শিক্ষক, যিনি তার জীবনের সেরা সময় উৎসর্গ করেছেন শিক্ষার্থীদের জন্য—তার শেষ বয়স কেন হবে এমন অনিশ্চয়তায় ভরা? কেন তাকে নিজের প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে?
সমাধান কি নেই? অবশ্যই আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনশন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করা এখন সময়ের দাবি। ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই যেন পেনশন চালু হয়—এমন ব্যবস্থা চালু করা গেলে হাজারো শিক্ষক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন। এতে দুর্নীতি কমবে, ভোগান্তিও অনেকাংশে লাঘব হবে।
সময় এসেছে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার। শিক্ষকদের সম্মান শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। তাদের জীবনের শেষ অধ্যায় যেন হয় নিরাপদ, নিশ্চিন্ত ও মর্যাদাপূর্ণ—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
শেষ প্রশ্নটি রয়ে যায়—
যারা আমাদের ভবিষ্যৎ গড়েছেন, তাদের বর্তমানটা কি আমরা একটু সহজ করতে পারি না?
উল্লেখ্য, কুমিল্লার হোমনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দপ্তরী জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম ২০ অক্টোবর ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো কোনো অর্থ পাননি—যা এই সমস্যার বাস্তব ও করুণ চিত্র তুলে ধরে।



