মোঃ মাকসুদুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শেরপুরে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২, তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৬, দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে এ সাফল্য আসে।
মামলার বাদী শেরপুরের মাধবপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কন্যাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে একটি চক্র। তারা বিভিন্ন তান্ত্রিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে গত ১০ মার্চ কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ঘটনাটি জানার পর পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় জামালপুর ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকা থেকে মোছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১) কে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিজ বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।
তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে টার্গেট করত। তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ‘কবিরাজি’ চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করত।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



