বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশনিখোঁজের মাস পার হলেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

নিখোঁজের মাস পার হলেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের দীর্ঘ একমাস পার হলেও উদ্ধার হয়নি মায়া আক্তার (১২) নামের এক স্কুলছাত্রী। সে উপজেলার চৌধুরী মাহবুব হোসন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর গ্রামের মো. হাসান মোল্লার মেয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারের পরিবারে উৎকণ্ঠার পাশাপাশি পুলিশে অভিযোগ দিয়েও তাকে উদ্ধারে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও স্কুলছাত্রী মায়া আক্তার নিখোঁজের ঘটনায় অভিযুক্তরা স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দিনের মত গত ১লা এপ্রিল স্কুলছাত্রী মায়া আক্তার উপজেলার কাটাখালী এলাকায় চৌধুরী মাহবুব হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে নিজ ক্লাসে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এতে উদ্বিঘ্ন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুঁজি করে না পেয়ে ওইদিনই মায়া আক্তারের মা কুলসুম বেগম বাদি হয়ে স্থানীয় যুবক মো. সুমন সহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে স্থানীয় যুবক সুমন প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করে আসছিল। মায়া আক্তার স্কুল ছুটি হলেও বাড়িতে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা সুমন শেখের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে সন্দেহ হয়। তাদের সাথে কথাবার্তার একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেন সুমন সুযোগ বুঝে শিশু মায়া আক্তারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রেখেছে।
পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল একই অভিযোগে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারের মা বাদি হয়ে রাজবাড়ীর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারে দুলাভাই মো. রাকিব নলিয়া জানান, গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও দিনের পর দিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ কোন তৎপরতা শুরুই করেনি। এ ব্যাপারে তারা থানায় ঘুরলেও থানা থেকে বার বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে আপোষ করার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাদের শিশু কন্যাকে উদ্ধারের কোন উদ্যোগই নেয়নি। এরপর তারা কোন উপায় না পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল সালামের মাধ্যমে অভিযুক্ত সুমনের পরিবারের কাছে তাদের শিশু কন্যাকে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানায়। কিন্তু সুমনের পরিবার তাতে কর্ণপাত না করে স্বীকার করে যে, তাদের মেয়ের কোন ক্ষতি হয়নি, সে ভালো আছে। এ পরিস্থিতিতে তারা স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারকে তাদের হেফাজতে ফিরিয়ে দেয়ার অথবা তাদের সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু এতেও তারা রাজি না হওয়ায় তারা চরম উদ্বিঘœতার মধ্যে দিন পার করছেন।
তিনি আরো জানান, শেষ পর্যন্ত তারা বাধ্য হয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসের সাথে দেখা করে এ ঘটনা তাঁকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের সামনেই গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসিকে এ বিষয়ে ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও পুলিশের কোন তৎপরতা আমরা দেখছি না। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাজবাড়ীর আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলার নোটিশ বাড়িতে এসেছে বলে তিনি জানান।
মামলাটি গত ২৪ এপ্রিল রাজবাড়ীর আদালতে অভিযুক্ত যুবক সুমনের বাবা আব্দুস সালাম বাদি হয়ে দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সুমন ও মায়া স্বেচ্ছায় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে একত্রে বসবাস করছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামকে এ ঘটনার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অবগত করে বিষয়টি জানতে চাইলেও তিনি বলেন, ‘আপনি যে সব বিষয় বলছেন, বিষয়টি আমার কাছে ক্লিয়ার না। এ ধরনের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। অভিযোগকারীদের আমার কাছে পাঠিয়ে দেন।’
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস জানান, নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আমার কাছেও এসেছিল। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি তখনই গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি’র সাথে কথা বলেছিলাম এবং তাকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার সম্পর্কে ম্যাসেজ দিয়েছিলাম।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments