মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একনেকে অনুমোদন পেল বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। এই অনুমোদনের খবরে আনন্দিত হয়ে উঠেছে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। বুধবার বাদ আসর রাজবাড়ী ও পাংশার বিভিন্ন মসজিদে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী সদর উপজেলা মডেল মসজিদে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া। দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির সংকট দেখা দেয় এবং এর ফলে মরুকরণ ও লবণাক্ততার যে সমস্যা তৈরি হয়, তা রোধ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে। খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের পাশাপাশি নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।
খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনা পুনরুজ্জীবিত করা হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারেজ। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক। এছাড়া গড়াই অফ-টেক, চন্দনা অফ-টেক ও হিসনা অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারেজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।



