মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশআদিতমারীতে শিশুর বস্তাবন্দী লাশ: হত্যার সন্দেহে আটক, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আদিতমারীতে শিশুর বস্তাবন্দী লাশ: হত্যার সন্দেহে আটক, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ওয়াদুদ আহমেদ মিলু , রংপুর প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় নিখোঁজ প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর (৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত শিশু নন্দিনী রানী ফলিমারী গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে। শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানাগেছে ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এরআগে সোমবার বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। 

এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা বিধান চন্দ্র বর্মন (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণ (৫৫) কে আটক করে বাড়ীঘর ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ আটক বাবা ও ছেলেকে থানায় আনতে পারেননি। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘিরে রেখেছেন।  ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার ও বিজিবির অধিনায়ক উপস্থিত রয়েছেন। 

এদিকে শিশু নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফলিমারী গ্রামটি। এলাকাবাসী নন্দিনী রাণীর হত্যাকারী সন্দেহে একই এলাকার বিধান চন্দ্র (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণের (৫৫) বাড়ীঘর ভাংচুর করে তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার ও বিজিবির অধিনায়ক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানায়, প্রতিদিনের মতো শিশুটি খেলাধুলার জন্য সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সে সন্ধ্যা পযর্ন্ত বাড়িতে ফিরে না আসলে পরিবারের লোকজন এদিক সেদিক খুঁজতে থাকে। প্রায় সারা রাতজুড়ে বিভিন্ন স্থানে শিশুটির সন্ধান করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান মিলেনি। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে ভুট্টা গাছ ভাঙ্গা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। তারা ভুট্টাখেতের ভেতরে গিয়ে গর্ত দেখতে পায়। গর্তের মধ্যে শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ শিশুটিকে জোরপুর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে ভুট্টাখেতে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহটি বস্তাবন্দী করে ভুট্টাখেতের ভেতর গর্ত করে পুতে রাখা হয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারী দুরের কেউ নয়। গ্রামের কোন দুষ্ট মানুষ এই অপরাধ সংঘটিত করেছে।

শিশুটির বাবা নলিনী বর্মণ জানান,’ আমার সাথে গ্রামে কোন দ্বন্দ নেই। আমি একজন কৃষক। খুব সাধারন জীবনযাপন করি। সোমবার দুপুরেও আমি মেয়েকে সাথে নিয়ে দুপুরের আহার করেছিলাম।’ ‘আমার ছোট মেয়েটিকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিচার চাই।’

শিশুটির মা সাবিত্রী রানী বলেন,’ নন্দিনী প্রতিদিন বিকেলে বাড়ির বাইরে খেলতে যেতো। সোমবারে বিকেলেও খেলতে গিয়েছিল। বাড়ির পাশে বেশ কয়েকটি ভুট্টাখেত রয়েছে। হয়তো আমার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোরপুর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে ভুট্টাখেতে আটকে রেখে তার সাথে পৈশাচিক আচরণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

 আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান,’ আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশ সুপার স্যারও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মরদহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পুর্বে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা। তিনি আরো জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments