শেরিফ হোসেন,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে উল্লেখ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। বিতর্কের পর তিনি এ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি মুনতাকিম তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারে মোট ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তিনি বলেন, তার বাবাসহ পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং তার বাবা ও দাদা শহীদ হয়েছেন।
তবে সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পর। এ কারণে একজন শহীদের সন্তান হিসেবে তার দাবি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, এমপি মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। তারা নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে বসবাস করছেন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে এমপি মুনতাকিম বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। এ কারণে বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার বাবা জীবিত আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুলবশত অন্যভাবে বলেছি। এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও নিজের বক্তব্যকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।



