আবদুল্লাহ সামি, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান নিজ এলাকায় যাওয়ার পথে ডাকাত দলের বর্বরোচিত হামলায় শিকার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ওপর এমন নৃশংস হামলায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রাতে নিজ এলাকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় হঠাৎ সশস্ত্র ডাকাতদল সাকিব হাসান খানের ওপর হামলা চালায়। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নারীসহ মোট ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা যিনি অহর্নিশ জনগণের সেবায় নিয়োজিত, তার ওপর নিজ এলাকায় এমন কাপুরুষোচিত হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সচেতন মহল মনে করছেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়; বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সভ্য সমাজের অন্যতম দায়িত্ব। এ ঘটনা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। তারা বলছে “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, যেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং ভয়হীন পরিবেশে দায়িত্ব পালন ও জীবনযাপন করতে পারবেন।”
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ফোরামে তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। নাগরিক সমাজ বলছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।
মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণ ও তার সহকর্মীরা সাকিব হাসানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দেশ ও মানুষের সেবায় ফিরে আসতে পারেন—এটাই এখন সবার প্রার্থনা।



