আবদুল্লাহ সামি কুমিল্লা (উত্তর) জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করিয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া। তবে তিনি বোর্ডের নির্দেশিত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাতাগুলো বিদ্যালয়ের মো. মেহেদী নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এতে উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
লিখিত আবেদনে এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে জড়িতর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবী জানান ।
অভিযোগকারী অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাই না। তবে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়নের স্বার্থে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এখানে সামান্যতম অনিয়মও শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছাত্র দিয়ে এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



