রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে গতকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আসল চিত্র আজ ভোরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাতভর আগুনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো সকালে ফিরে এসে দেখেন—তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত এক হাজার পাঁচশ’ ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে শত শত পরিবার; চোখের সামনে সবকিছু হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
রাতের অন্ধকারে ক্ষতির মাত্রা পুরো বোঝা না গেলেও ভোর হতেই কড়াইল বস্তির ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে পোড়া লোহার ফ্রেম খুঁজছেন, কেউ বা বাঁচানো যায় কি না—সেদিকে তাকিয়ে কিছু ভাঙাচোরা জিনিস টেনে বের করছেন। শিশুদের অনেকেই সারারাত রাস্তায় কেটেছে, আর সকালে তারা দেখেছে নিজেদের ঘর শুধু ধোঁয়া-ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানাচ্ছেন—বিভিন্ন সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। যাদের ঘর পুড়েছে তারা বলছেন, এমন বিশাল ক্ষতির পর কীভাবে দিন কাটবে—তা নিয়ে তারা গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘিঞ্জি এলাকা এবং পানি সরবরাহের জটিলতার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস টানা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানিয়েছেন, বস্তির ঘনবসতি ও সংকীর্ণ গলি আগুন নেভানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পানির স্বল্পতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সব মিলিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদেরকে প্রচুর সময় এবং পরিশ্রম করতে হয়েছে।



