বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়আর্মি অফিসারদের জিম্মি করতে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রস্তুত ছিল বিদ্রোহীরা

আর্মি অফিসারদের জিম্মি করতে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রস্তুত ছিল বিদ্রোহীরা

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের ভেতরে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল—তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের মাঠে সিপাহী মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে এক বৈঠক হয়। সেখানে সিপাহী সেলিম ও মইনুদ্দিনসহ প্রায় ১০–১২ জন উপস্থিত ছিল। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে দরবার অনুষ্ঠানের দিন অংশগ্রহণকারীরা রশি ও চাকু সঙ্গে রাখবে, যাতে অফিসারদের জিম্মি করা সহজ হয়। অফিসাররা আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই অস্ত্র রাখার পরিকল্পনা করা হয় বলেও সাক্ষী বর্ণনায় উল্লেখ আছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই রাতে লে. কর্নেল শামস সিপাহী সেলিম ও মইনুদ্দিনকে ডেকে মেজর রিয়াজের দায়িত্ব সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, “আগামীকাল কোয়ার্টার গার্ডে ডিউটিতে থাকবে মেজর রিয়াজ, তোমরা গেলে সে অস্ত্র দিয়ে দেবে।”

জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনে ১৪ নম্বর কয়েদি সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে আসে। এছাড়া ৬৫ নম্বর সাক্ষী জানায়, সেন্ট্রাল কোয়ার্টার গার্ডে ২৪, ৪৪ এবং সদর ব্যাটালিয়নের অস্ত্র মজুত ছিল। ঘটনার আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি থেকেই সেনা অফিসাররা কোয়ার্টার গার্ডে অতিরিক্ত ডিউটি করছিলেন। এ বিষয়ে মেজর রিয়াজ জিএসও–২ (আই) মেজর মাহমুদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি শুধু “উড়ো চিঠির কারণে সতর্কতা” ছিল বলে জানান।

২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ওই দুই দিনে পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। প্রায় ১১ মাসের তদন্ত শেষে কমিশন তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে প্রধান উপদেষ্টার কাছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments