বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়নির্বাচন অস্থিতিশীল করতে সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ৮০ প্রশিক্ষিত আততায়ীর

নির্বাচন অস্থিতিশীল করতে সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ৮০ প্রশিক্ষিত আততায়ীর

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পরই ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় আগ্রাসন এবং আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত হাদি। হামলার পদ্ধতির কারণে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র এটিকে ভারত ও তাদের মদতপুষ্ট চক্রের সুদূরপ্রসারী হুমকির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছে। এই পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে জোর সন্দেহ করছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে নির্বাচন বানচাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৮০ জনের মতো প্রশিক্ষিত আততায়ী দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি অনুযায়ী, হাদির ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিদেশি চক্রান্তের অংশ। পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা এবং ভারতের ‘দাদাগিরি’ বন্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে দিল্লি ক্ষুব্ধ। হাদি ভারতীয় আগ্রাসন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সব দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের অন্যতম ‘আইকন’। ফ্যাসিবাদের আঁতুড়ঘর আখ্যা দিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়ি ভাঙা ও শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তিনি ছিলেন সরব। এ কারণেই তিনি ভারত ও তাদের দেশীয় মদতদাতা চক্রের প্রধান টার্গেটে পরিণত হন। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ ও গুলির শেল বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, হামলাটি কোনো সাধারণ গুণ্ডা বাহিনীর কাজ নয়; এটি অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ও পেশাদার একটি কিলার টিমের কাজ, যারা টার্গেট সিলেকশন থেকে শুরু করে হামলা চালানো এবং মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হওয়ার প্রক্রিয়ায় দক্ষ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, এই পেশাদার হিটম্যানদের প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা ও নির্দেশনা দিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)। বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং সরকারকে চরম বেকায়দায় ফেলা তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, যার অংশ হিসেবে হাদির মতো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে সরিয়ে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যে আরও জানা গেছে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে নির্বাচনকে বানচালের জন্য বৃহত্তর ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৮০ জনের মতো প্রশিক্ষিত আততায়ী বিভিন্ন সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ করেছে বলে আলোচনা চলছে। যাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মতো ব্যক্তিরাও রয়েছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও চরমপন্থি গ্রুপগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। নিরাপত্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারাবন্দি সুব্রত বাইন, জামিনে থাকা পিচ্চি হেলাল এবং চরমপন্থি সংগঠন গণমুক্তি ফৌজের প্রধান মুকুলের মধ্যে টেলিফোন কনফারেন্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ঘটানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সুব্রত বাইন কারাগার থেকে নেপালে পলাতক বিডিআর মামলার আসামি লেদার লিটনসহ অন্যান্য শীর্ষ অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই চক্রের মূল লক্ষ্য নির্বাচনকে ব্যাহত করে দেশে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। হাদির ওপর হামলাকে এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কৌশলগত প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments