ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু সংলগ্ন জাবালে নূর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভোর পাঁচটায় ভবনের নিচতলায় থাকা একটি জুট কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৪টি ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এ পর্যন্ত ভবনের ভেতর আটকে পড়া ৪২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগানগর এলাকার দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু সংলগ্ন জাবালে নূর টাওয়ার সুপার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড, নিচতলা ও দ্বিতলায় ৪০ থেকে ৫০টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির দোকান এবং জুট ব্যবসার গোডাউন রয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলা থেকে দশম তলা পর্যন্ত আবাসিক হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। পুরো ভবনে আনুমানিক পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস।
ভবনের মালিক হাজী ফারুক হোসেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিসের লিডার হেমায়েত মোল্লা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। পুড়ে যাওয়া শীতের কাপড় ও জুটজাত পণ্যের কারণে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া উদ্ধার কাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে কেরানীগঞ্জ ভূমি দক্ষিণ সার্কেলের এসিল্যান্ড আফতাব আহমেদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত), ফায়ার সার্ভিস সদস্য, কলকারখানা পরিদর্শক ও উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।



